হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার নিয়ম
হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার নিয়ম
(Health Insurance Claim Process – Complete Guide)
| হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার নিয়ম |
হেলথ ইন্স্যুরেন্স করার মূল উদ্দেশ্য হলো অসুস্থতার সময় চিকিৎসা খরচের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া। কিন্তু অনেকেই ইন্স্যুরেন্স করলেও ক্লেইম করার সঠিক নিয়ম না জানার কারণে টাকা পেতে সমস্যায় পড়েন। কখন কাকে জানাতে হবে, কী কাগজ লাগবে, ক্যাশলেস নাকি রিইম্বার্সমেন্ট—এই বিষয়গুলো পরিষ্কার না থাকলে ক্লেইম বাতিলও হতে পারে।
এই লেখায় আমরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার পুরো প্রক্রিয়া সহজভাবে জানব।
১. হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম কী
হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম হলো—
👉 অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে চিকিৎসা খরচ হলে, সেই খরচের টাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়ার জন্য আবেদন করা।
ক্লেইম সাধারণত দুই ধরনের হয়—
-
ক্যাশলেস ক্লেইম (Cashless Claim)
-
রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম (Reimbursement Claim)
২. ক্যাশলেস হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার নিয়ম
ক্যাশলেস ক্লেইম কী
যদি আপনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নেটওয়ার্ক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, তাহলে আপনাকে আগে টাকা দিতে হয় না। হাসপাতাল সরাসরি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নেয়।
ক্যাশলেস ক্লেইম করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: নেটওয়ার্ক হাসপাতাল যাচাই
-
ইন্স্যুরেন্স কার্ড বা কোম্পানির তালিকা থেকে দেখুন হাসপাতাল নেটওয়ার্কে আছে কি না।
ধাপ ২: হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় জানানো
-
ইন্স্যুরেন্স কার্ড দেখান
-
পলিসি নম্বর দিন
ধাপ ৩: প্রি-অথরাইজেশন ফর্ম পূরণ
-
হাসপাতাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ফর্ম পাঠায়
-
চিকিৎসার আনুমানিক খরচ উল্লেখ থাকে
ধাপ ৪: অনুমোদন (Approval)
-
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অনুমোদন দিলে চিকিৎসা শুরু হয়
ধাপ ৫: ডিসচার্জের সময়
-
অনুমোদিত খরচ সরাসরি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পরিশোধ করে
-
অতিরিক্ত খরচ থাকলে রোগী দেয়
ক্যাশলেস ক্লেইমে যেসব কাগজ লাগে
-
ইন্স্যুরেন্স কার্ড
-
পরিচয়পত্র
-
ভর্তি ও ডিসচার্জ সার্টিফিকেট
৩. রিইম্বার্সমেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করার নিয়ম
রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম কী
যদি—
-
হাসপাতাল নেটওয়ার্কে না থাকে
-
বা জরুরি অবস্থায় আগে টাকা দিতে হয়
তাহলে চিকিৎসার পর খরচের টাকা ফেরত চাওয়া হয়—এটাই রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম।
রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা
নিজের টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিন।
ধাপ ২: সব কাগজপত্র সংগ্রহ
চিকিৎসা শেষে সব বিল ও রিপোর্ট নিন।
ধাপ ৩: ক্লেইম ফর্ম পূরণ
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্লেইম ফর্ম পূরণ করুন।
ধাপ ৪: ডকুমেন্ট জমা
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিন।
ধাপ ৫: যাচাই ও অনুমোদন
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি যাচাই করে টাকা ফেরত দেয়।
রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইমে যেসব কাগজ লাগে
-
ক্লেইম ফর্ম
-
হাসপাতালের মূল বিল
-
ডিসচার্জ সার্টিফিকেট
-
প্রেসক্রিপশন
-
টেস্ট রিপোর্ট
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য
৪. ক্লেইম করার সময় যে বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ
৪.১ সময়মতো জানানো
-
জরুরি নয় এমন ভর্তি হলে আগেই জানাতে হয়
-
দেরি করলে ক্লেইম বাতিল হতে পারে
৪.২ ওয়েটিং পিরিয়ড চেক করা
-
কিছু রোগে শুরুতে ক্লেইম পাওয়া যায় না
৪.৩ এক্সক্লুশন জানা
-
সব রোগ বা চিকিৎসা কভার হয় না
৫. হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম বাতিল হওয়ার সাধারণ কারণ
❌ প্রি-এক্সিস্টিং রোগ গোপন করা
❌ ওয়েটিং পিরিয়ড শেষ না হওয়া
❌ ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট
❌ নেটওয়ার্ক নয় এমন হাসপাতালে ক্যাশলেস চাওয়া
❌ সময়সীমা মিস করা
৬. বাস্তব উদাহরণ
উদাহরণ ১: ক্যাশলেস ক্লেইম
রাশেদ নেটওয়ার্ক হাসপাতালে অপারেশন করান।
👉 হাসপাতাল সরাসরি ইন্স্যুরেন্স থেকে টাকা নেয়।
উদাহরণ ২: রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম
সুমি জরুরি অবস্থায় নন-নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন।
👉 পরে বিল জমা দিয়ে টাকা ফেরত পান।
৭. ক্লেইম সহজে পাওয়ার জন্য টিপস
✔ পলিসি ডকুমেন্ট ভালোভাবে পড়ুন
✔ সব মেডিকেল রিপোর্ট সংরক্ষণ করুন
✔ ইন্স্যুরেন্স কার্ড সবসময় সাথে রাখুন
✔ প্রয়োজন হলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন
হেলথ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করা কঠিন নয়—যদি নিয়ম জানা থাকে। সঠিক হাসপাতাল নির্বাচন, সময়মতো জানানো এবং সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে বেশিরভাগ ক্লেইম সহজেই মঞ্জুর হয়।
ইন্স্যুরেন্স করা যেমন জরুরি,
তেমনি ইন্স্যুরেন্স ব্যবহার করাও জানা জরুরি।