ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হওয়ার কারণ
ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হওয়ার কারণ
| ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হওয়ার কারণ |
(Reasons Why Insurance Claims Get Rejected)
ইন্স্যুরেন্স করার মূল উদ্দেশ্যই হলো বিপদের সময় আর্থিক সহায়তা পাওয়া। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই অভিযোগ করেন—
👉 “ইন্স্যুরেন্স করেছিলাম, কিন্তু ক্লেইম রিজেক্ট হয়ে গেছে।”
এই সমস্যার মূল কারণ বেশিরভাগ সময়ই নিয়ম না জানা, তথ্য গোপন করা বা ডকুমেন্টের ভুল। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লেইম বাতিল করে না; বরং পলিসির শর্ত পূরণ না হলে ক্লেইম রিজেক্ট হয়।
এই লেখায় আমরা জানব—কোন কোন কারণে ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হয় এবং কীভাবে সেগুলো এড়ানো যায়।
১. ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান (Non-disclosure / Misrepresentation)
কী ঘটে
পলিসি নেওয়ার সময় যদি—
-
রোগের ইতিহাস গোপন করা হয়
-
ধূমপান বা মদ্যপানের তথ্য না দেওয়া হয়
-
বয়স বা পেশা ভুল বলা হয়
তাহলে ক্লেইমের সময় তা ধরা পড়লে কোম্পানি ক্লেইম বাতিল করতে পারে।
উদাহরণ
একজন ব্যক্তি ডায়াবেটিস থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেন।
👉 পরে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় চিকিৎসা নিলে ক্লেইম রিজেক্ট হয়।
২. ওয়েটিং পিরিয়ড শেষ না হওয়া
কী ঘটে
হেলথ ইন্স্যুরেন্সে—
-
সাধারণ রোগ
-
প্রি-এক্সিস্টিং রোগ
-
নির্দিষ্ট চিকিৎসা
এসবের জন্য নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয় (Waiting Period)।
👉 এই সময়ের মধ্যে ক্লেইম করলে তা বাতিল হয়।
৩. পলিসির এক্সক্লুশনের আওতায় পড়া
এক্সক্লুশন কী
যেসব রোগ বা চিকিৎসা ইন্স্যুরেন্সে কভার করা হয় না, সেগুলোকে এক্সক্লুশন বলা হয়।
সাধারণ এক্সক্লুশন
-
কসমেটিক সার্জারি
-
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা
-
আত্মহত্যা (লাইফ ইন্স্যুরেন্সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে)
-
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুর্ঘটনা
👉 এসব ক্ষেত্রে ক্লেইম রিজেক্ট হয়।
৪. প্রিমিয়াম বকেয়া বা পলিসি ল্যাপস হওয়া
কী ঘটে
-
সময়মতো প্রিমিয়াম না দিলে
-
গ্রেস পিরিয়ড পেরিয়ে গেলে
পলিসি ল্যাপস হয়ে যায়।
👉 ল্যাপস অবস্থায় কোনো ক্লেইম গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লেইম না করা
কী ঘটে
-
হাসপাতালে ভর্তি বা দুর্ঘটনার তথ্য দেরিতে জানালে
-
ক্লেইম ফর্ম দেরিতে জমা দিলে
কোম্পানি ক্লেইম বাতিল করতে পারে।
৬. সঠিক ডকুমেন্ট না দেওয়া
সাধারণ ভুল
-
মূল বিল না দেওয়া
-
ডিসচার্জ সার্টিফিকেট না থাকা
-
প্রেসক্রিপশন বা রিপোর্ট অসম্পূর্ণ
👉 অসম্পূর্ণ কাগজপত্র ক্লেইম রিজেক্টের বড় কারণ।
৭. নেটওয়ার্ক হাসপাতালের নিয়ম না মানা (ক্যাশলেস ক্লেইমে)
-
নন-নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ক্যাশলেস দাবি
-
প্রি-অথরাইজেশন না নেওয়া
👉 এতে ক্যাশলেস ক্লেইম বাতিল হয়।
৮. পলিসির সীমা (Sub-limit) অতিক্রম করা
কিছু পলিসিতে—
-
রুম রেন্ট লিমিট
-
নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্যাপ
থাকে।
👉 সীমা ছাড়িয়ে খরচ করলে অতিরিক্ত অংশের ক্লেইম বাতিল হয়।
৯. ইচ্ছাকৃত ক্ষতি বা প্রতারণা (Fraud)
-
ভুয়া বিল
-
ভুয়া দুর্ঘটনা
-
ইচ্ছাকৃত আঘাত
👉 এসব ক্ষেত্রে শুধু ক্লেইম রিজেক্ট নয়, পলিসিও বাতিল হতে পারে।
১০. আইনগত বা নৈতিক শর্ত ভঙ্গ
-
অবৈধ কার্যকলাপের সময় দুর্ঘটনা
-
লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো (মোটর ইন্স্যুরেন্সে)
👉 এসব ক্ষেত্রে ক্লেইম বাতিল হয়।
১১. লাইফ ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হওয়ার বিশেষ কারণ
-
আত্মহত্যা (প্রথম ১–২ বছর)
-
ভুল নমিনি তথ্য
-
মৃত্যু কারণ অস্পষ্ট বা প্রমাণহীন
১২. বাস্তব উদাহরণ
উদাহরণ
রবিন একটি হেলথ পলিসি করেন।
প্রি-এক্সিস্টিং রোগ গোপন করেন।
২ বছর পর সেই রোগে ভর্তি হন।
👉 ক্লেইম রিজেক্ট।
১৩. ক্লেইম রিজেক্ট হওয়া এড়ানোর উপায়
✔ পলিসি নেওয়ার সময় সব তথ্য সত্যভাবে দিন
✔ পলিসি ডকুমেন্ট ভালোভাবে পড়ুন
✔ প্রিমিয়াম সময়মতো দিন
✔ সব বিল ও রিপোর্ট সংরক্ষণ করুন
✔ সন্দেহ হলে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন
ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম রিজেক্ট হওয়া দুঃখজনক, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি এড়ানো সম্ভব। সঠিক তথ্য প্রদান, নিয়ম মেনে চলা এবং সচেতনতা থাকলে ইন্স্যুরেন্স সত্যিকার অর্থেই বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়।
ইন্স্যুরেন্সে সমস্যা হয় না,
সমস্যা হয় যখন আমরা শর্তগুলো না বুঝে সিদ্ধান্ত নিই।