হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি
হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি
| হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি |
আজকের সময়ে চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছোটখাটো অসুস্থতাও কখনো কখনো বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ গুরুতর অসুখ, হাসপাতালে ভর্তি, সার্জারি—এসবের খরচ অনেক পরিবারই বহন করতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে হেলথ ইন্স্যুরেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। তবে অনেকেই হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেন কিন্তু পরে ক্লেইমে সমস্যা হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকে জানা জরুরি।
১. হেলথ ইন্স্যুরেন্স কী
হেলথ ইন্স্যুরেন্স হলো একটি চুক্তি, যেখানে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি চিকিৎসা খরচ কভার করে।
-
হাসপাতালে ভর্তি (Hospitalization)
-
সার্জারি ও অপারেশন
-
ডাক্তার ফি ও ওষুধ
-
ডায়াগনস্টিক টেস্ট
-
কিছু ক্ষেত্রে জীবন-ঘাতী রোগের চিকিৎসা
এই খরচের পুরো বা অংশিক বহন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি করে।
২. হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার গুরুত্ব
-
আর্থিক সুরক্ষা
-
বড় চিকিৎসার খরচ পরিবারের সঞ্চয় দ্রুত শেষ করে দিতে পারে।
-
ইন্স্যুরেন্স থাকলে পরিবারের আর্থিক চাপ কমে।
-
-
মানসিক শান্তি
-
হঠাৎ অসুস্থতার ভয় কমে।
-
চিকিৎসার সিদ্ধান্ত সহজে নেওয়া যায়।
-
-
বাড়তি সুবিধা
-
কিছু পলিসিতে Cashless সুবিধা থাকে, অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি হলে কোম্পানি সরাসরি বিল পায়।
-
Preventive check-up, maternity benefit, critical illness benefit—কিছু অতিরিক্ত সুবিধা।
-
৩. হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ধরন
৩.১ টিম বা গ্রুপ পলিসি
-
অফিস বা সংস্থার মাধ্যমে নেওয়া
-
কম প্রিমিয়াম
-
একসাথে একাধিক কর্মচারী বা পরিবার সদস্য কভার
৩.২ ফ্যামিলি ফ্লোটার পলিসি
-
পুরো পরিবারকে একই পলিসির আওতায় আনা যায়
-
প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম
-
বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কার্যকর
৩.৩ সিংগেল ইন্স্যুরেন্স
-
একজন ব্যক্তির জন্য
-
নতুন বা ব্যক্তিগত চাহিদার জন্য
৪. হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি
৪.১ ক্লেইমর ধরন
-
Reimbursement: হাসপাতালের খরচ আপনি প্রথমে দিচ্ছেন, পরে কোম্পানি ফেরত দেয়।
-
Cashless: হাসপাতালের বিল সরাসরি কোম্পানি মিটায়।
৪.২ পলিসির সীমা (Sum Insured)
-
কত টাকা পর্যন্ত কভারেজ আছে তা যাচাই করুন।
-
আপনার চিকিৎসা সম্ভাবনা এবং পরিবারিক খরচের সাথে তুলনা করুন।
৪.৩ প্রিমিয়াম
-
আপনার বাজেট অনুযায়ী যথেষ্ট প্রিমিয়াম দিন।
-
খুব কম প্রিমিয়াম মানেই সব কভারেজ থাকে না।
৪.৪ waiting period / exclusion
-
কিছু রোগ শুরুতেই কভার হয় না।
-
প্রাথমিক রোগ, pre-existing conditions, maternity—কভার হওয়ার আগে সময় থাকতে পারে।
৪.৫ network hospital list
-
Cashless সুবিধা পাবেন এমন হাসপাতাল তালিকা দেখুন।
-
আপনার নিকটস্থ হাসপাতাল তালিকায় আছে কিনা যাচাই করুন।
৪.৬ deductibles
-
কত টাকা পর্যন্ত নিজের খরচ বহন করতে হবে তা দেখুন।
-
High deductible হলে প্রিমিয়াম কম হয়, Low deductible হলে খরচ বেশি।
৪.৭ পলিসি টার্ম এবং রিনিউয়াল
-
বার্ষিক, দুই বা তিন বছরের পলিসি হতে পারে।
-
Automatic রিনিউয়াল সুবিধা থাকলে সুবিধা।
৪.৮ অতিরিক্ত সুবিধা / Riders
-
Critical Illness Cover
-
Maternity Benefit
-
Hospital Cash Benefit
৫. হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেবার ধাপে ধাপে নিয়ম
-
নিজের প্রয়োজন নির্ধারণ করুন
-
পরিবার, বয়স, স্বাস্থ্য ইতিহাস
-
-
বাজারে পাওয়া পলিসি তুলনা করুন
-
প্রিমিয়াম, কভারেজ, সুবিধা, exclusions
-
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
-
আইডি, বর্তমান স্বাস্থ্য তথ্য, পুরনো পলিসি
-
-
অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করুন
-
পলিসি ডকুমেন্ট ভালো করে পড়ুন
-
মাসিক বা বার্ষিক প্রিমিয়াম পরিশোধ করুন
-
রিনিউয়াল সময়মতো করুন
৬. হেলথ ইন্স্যুরেন্সে সাধারণ ভুল
❌ কেবল কম প্রিমিয়াম দেখে পলিসি নেওয়া
❌ পলিসি শর্তাবলি না পড়া
❌ নেটওয়ার্ক হাসপাতাল যাচাই না করা
❌ Waiting period ও exclusions বুঝে না নেওয়া
❌ রিনিউয়াল সময়মতো না করা
৭. বাস্তব উদাহরণ
-
রফিকের গল্প:
রফিকের পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান। তিনি একটি ফ্যামিলি ফ্লোটার হেলথ পলিসি নিলেন।
হঠাৎ তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলো, খরচ ১,৫০,০০০ টাকা।
ইন্স্যুরেন্স থাকায় পুরো খরচ কোম্পানি বহন করেছে।
👉 মানসিক চাপ শূন্য, আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া মানে শুধু চিকিৎসার খরচের জন্য নয়, এটি একটি আর্থিক সুরক্ষা, মানসিক শান্তি এবং পরিবারের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।
সঠিক পলিসি নির্বাচন, ক্লিয়ার শর্তাবলি বোঝা এবং নিয়মিত রিনিউয়াল—এই তিনটি মূল দিক মেনে চললেই হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাস্তব জীবনে কাজ করে।