ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কীভাবে নির্ধারণ হয়

 

ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কীভাবে নির্ধারণ হয়

(How Insurance Premium Is Determined)


How Insurance Premium Is Determined
How Insurance Premium Is Determined


ইন্স্যুরেন্স করার সময় আমাদের প্রথম প্রশ্ন হয়—
👉 “প্রিমিয়াম এত বেশি কেন?”
👉 “অন্যজন কম দিচ্ছে, আমি বেশি দিচ্ছি কেন?”

ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কোনো এলোমেলো সংখ্যা নয়। এটি নির্ধারণ করা হয় নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে—
👉 আপনি যত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, প্রিমিয়াম তত বেশি।

এই লেখায় আমরা জানব, কোন কোন বিষয় বিবেচনা করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে।


১. ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কী

ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম হলো—
👉 ইন্স্যুরেন্স কভারেজ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর (মাসিক/ত্রৈমাসিক/বার্ষিক) ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে যে টাকা দিতে হয়।

এই টাকার বিনিময়ে কোম্পানি ঝুঁকির দায়িত্ব গ্রহণ করে।


২. ঝুঁকি মূল্যায়ন (Risk Assessment) – মূল ভিত্তি

প্রিমিয়াম নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঝুঁকি মূল্যায়ন

ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রশ্ন করে—

  • এই ব্যক্তি বা সম্পদের ক্ষতির সম্ভাবনা কত?

  • ক্ষতি হলে কত টাকা দিতে হতে পারে?

👉 ঝুঁকি যত বেশি, প্রিমিয়াম তত বেশি।


৩. বয়স (Age)

কেন গুরুত্বপূর্ণ

বয়স বাড়ার সাথে সাথে—

  • অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে

  • মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়ে

👉 তাই লাইফ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সে বয়স বড় ভূমিকা রাখে।

উদাহরণ

২৫ বছর বয়সে লাইফ ইন্স্যুরেন্স = কম প্রিমিয়াম
৪৫ বছর বয়সে একই কভারেজ = বেশি প্রিমিয়াম


৪. স্বাস্থ্য অবস্থা (Health Condition)

কী বিবেচনা করা হয়

  • ডায়াবেটিস

  • উচ্চ রক্তচাপ

  • হার্টের সমস্যা

  • অতীতের বড় রোগ

👉 স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি হলে প্রিমিয়াম বাড়ে।


৫. জীবনধারা (Lifestyle)

জীবনধারা কেন গুরুত্বপূর্ণ

  • ধূমপান

  • মদ্যপান

  • অনিয়মিত জীবন

  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

👉 এসব অভ্যাস ঝুঁকি বাড়ায়।

উদাহরণ

ধূমপায়ী ব্যক্তির লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম সাধারণত বেশি হয়।


৬. পেশা (Occupation)

কিছু পেশা স্বভাবতই ঝুঁকিপূর্ণ—

  • নির্মাণ শ্রমিক

  • খনি শ্রমিক

  • পাইলট

  • ড্রাইভার

👉 ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় প্রিমিয়াম বেশি হয়।


৭. কভারেজ পরিমাণ (Sum Assured)

আপনি যত বেশি কভারেজ চান—

  • কোম্পানির দায়িত্ব তত বেশি

  • প্রিমিয়ামও তত বেশি

👉 বেশি সুরক্ষা = বেশি প্রিমিয়াম


৮. পলিসির মেয়াদ (Policy Term)

  • দীর্ঘমেয়াদি পলিসি → মোট প্রিমিয়াম বেশি

  • স্বল্পমেয়াদি পলিসি → কম

তবে দীর্ঘমেয়াদে মাসিক প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম হতে পারে।


৯. পলিসির ধরন (Type of Insurance)

প্রিমিয়াম ভিন্ন হয়—

  • লাইফ ইন্স্যুরেন্স

  • হেলথ ইন্স্যুরেন্স

  • ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স

  • মোটর ইন্স্যুরেন্স

👉 ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়।


১০. পূর্ববর্তী ক্লেইম ইতিহাস (Claim History)

বিশেষ করে—

  • মোটর ইন্স্যুরেন্স

  • হেলথ ইন্স্যুরেন্স

যাদের আগের ক্লেইম বেশি—
👉 তাদের প্রিমিয়াম বাড়তে পারে।


১১. ভৌগোলিক অবস্থান (Location)

  • শহরে চিকিৎসা খরচ বেশি

  • দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি

👉 তাই অবস্থানও প্রিমিয়ামে প্রভাব ফেলে।


১২. অতিরিক্ত সুবিধা ও রাইডার (Add-ons / Riders)

  • ক্রিটিক্যাল ইলনেস কভার

  • অ্যাক্সিডেন্ট রাইডার

  • মাতৃত্ব সুবিধা

👉 অতিরিক্ত সুবিধা নিলে প্রিমিয়াম বাড়ে।


১৩. ডিসকাউন্ট ও বোনাস

কিছু ক্ষেত্রে—

  • নো-ক্লেইম বোনাস

  • ফ্যামিলি ডিসকাউন্ট

  • অনলাইন ডিসকাউন্ট

👉 প্রিমিয়াম কমতে পারে।


১৪. বাস্তব উদাহরণ

রফিক (৩০ বছর, সুস্থ, নন-স্মোকার)
👉 লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কম

করিম (৪৫ বছর, ডায়াবেটিস, স্মোকার)
👉 একই কভারেজে প্রিমিয়াম বেশি

ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম নির্ধারণ কোনো অনুমানের বিষয় নয়। এটি নির্ভর করে আপনার ঝুঁকি, স্বাস্থ্য, জীবনধারা ও কভারেজের ওপর। প্রিমিয়াম বেশি বা কম হওয়ার পেছনে সবসময়ই যৌক্তিক কারণ থাকে।

ইন্স্যুরেন্সে কম প্রিমিয়াম মানেই ভালো নয়,
ভালো মানে হলো—সঠিক কভারেজ, সঠিক দামে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url